জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

ভোটে জিতছেন তীব্র আশাবাদী ছিলেন রাজ! পাত্তা দেননি বিপক্ষকে! সেই বিপক্ষের কাছে গো-হারান হারতেই মন খারাপ করে রাজনীতিকে বিদায় পরিচালকের

বাংলার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফল প্রকাশের পর রাজ্য রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। গেরুয়া ঝড়ে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারিয়েছে। এই আবহেই ফল ঘোষণার মাত্র দু’দিন পর রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানালেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। ২০২১ সালে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন এবং তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়ান। সেই নির্বাচনে জয় পেয়ে পাঁচ বছর বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এবারও একই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হলেও জয় ধরে রাখতে পারেননি। ভোটে পরাজয়ের পর নিজের রাজনৈতিক পথচলা শেষ করার সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনেন রাজ। তাঁর এই ঘোষণা ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে।

সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে নিজের সিদ্ধান্ত জানান রাজ। তিনি লেখেন, “জীবনে যখনই কোনও দায়িত্ব পেয়েছি নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে পালন করেছি।” পাশাপাশি নিজের পেশাগত জীবনের কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাজের কথায়, “এক জন পরিচালক হিসাবে সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে সবসময় আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কখনও হেরেছি। কখনও জিতেছি।” এরপর তিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরুর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “২০২১-এ আমার রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ। মানুষ আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন কাজ করার।” পাঁচ বছরের কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, “পাঁচ বছর ধরে সেই ভাবেই বিধায়কের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করে গিয়েছি।” শেষে স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “সেই অধ্যায় শেষ হল ২০২৬-এ। সঙ্গে শেষ হল আমার রাজনৈতিক জীবনের পথচলা।”

শুধু বিদায় ঘোষণাই নয়, নতুন সরকারকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজ চক্রবর্তী। তিনি লেখেন, “বাংলার মানুষের মতামতে নতুন সরকার এসেছে। আগামী ৯ মে ২০২৬-এ তাঁরা শপথ নেবেন।” একই সঙ্গে নতুন প্রশাসনের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে বলেন, “তাঁদের জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।” রাজ আরও আশা প্রকাশ করেন, “আশা করব, আপনাদের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে যাবে উন্নতির পথে।” মানুষের সমস্যার সমাধান হোক বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষায়, “মানুষের সমস্ত সমস্যার সমাধান হবে। সবাই ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন।” রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরেও এই বার্তা অনেকের নজর কেড়েছে।

ভোট চলাকালীন ব্যারাকপুরে রাজ চক্রবর্তীর প্রচার ঘিরে যথেষ্ট উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল। তাঁর রোড শোতে ভিড়ও নজরে পড়ে। তবে ফল ঘোষণার দিন পরিস্থিতি অন্য রূপ নেয়। গণনাকেন্দ্র থেকে বেরনোর সময় তাঁকে ঘিরে “চোর চোর” স্লোগান ওঠে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি তাঁকে লক্ষ্য করে কাদা এবং ঘুঁটেও ছোড়া হয় বলে জানা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা বাড়ে। যদিও ঘটনার পর রাজের পক্ষ থেকে কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পরে সংবাদমাধ্যমের তরফে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর তরফে উত্তর পাওয়া যায়নি।

রাজের পরাজয়ের পর তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। ভোটের ফল প্রকাশের পর স্ত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন। সেখানে তিনি বোঝাতে চান, রাজ তাঁদের জীবনের নায়কই থাকবেন। এই হার যেন কোনওভাবেই পরিচালকের মনোবল ভেঙে না দেয়, সেই বার্তাও ছিল তাঁর লেখায়। শুভশ্রীর এই পোস্ট দ্রুত সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তা নিয়ে মন্তব্য করেন। একদিকে রাজনৈতিক পরাজয়, অন্যদিকে পরিবারের সমর্থন, এই দুইয়ের মাঝেই নতুন অধ্যায় শুরু করলেন রাজ চক্রবর্তী। এখন তিনি আবার সম্পূর্ণভাবে সিনেমার জগতেই মন দেবেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page